মোরগ পোলাও রান্নার সহজ রেসিপি।

 

মোরগ পোলাও রান্নার সহজ রেসিপি


মোরগ পোলাও রান্নার সহজ রেসিপি। 

বাংলা খাবারের ভাণ্ডারে যেসব ঐতিহ্যবাহী ও রাজকীয় পদ রয়েছে, তার মধ্যে মোরগ পোলাও অন্যতম। শুধু ঢাকাই নয়, পুরো বাংলাদেশেই এই খাবারটি এখন দারুণ জনপ্রিয়। বিশেষ করে ঈদ, বিয়ে বা যেকোনো উৎসব-মুখর আয়োজনে মোরগ পোলাও রান্নার সহজ রেসিপি খুঁজে থাকেন অনেকেই। আজকের এই ব্লগে আপনি জানবেন এর উৎপত্তি ও ইতিহাস, কেন এটি এত জনপ্রিয়, সহজ উপায়ে কীভাবে এটি রান্না করবেন, রান্নার সময় কতটা লাগে, পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা, কিছু বিশেষ টিপস এবং পরিবেশনের ধরন।


মোরগ পোলাওয়ের উৎপত্তি ও ইতিহাস

মোরগ পোলাওয়ের শিকড় মূলত পুরান ঢাকার রন্ধনপ্রথায়। মুঘল আমলের রান্না ঘর থেকে অনুপ্রাণিত এই খাবারটি ধীরে ধীরে ঢাকাই সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। মুঘলদের বিরিয়ানির মতই, পোলাও ও মাংসের সংমিশ্রণ তৈরি করেছে এই স্বাদের জাদু। তবে মোরগ পোলাওয়ের বিশেষত্ব হলো, এটি গরু বা খাসির বদলে মুরগির মাংস দিয়ে রান্না হয়, এবং পোলাওয়ের সুগন্ধি চালের সঙ্গে দারুচিনি, এলাচ, কেওড়া জল, ঘি ইত্যাদির ব্যবহার একে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে।


মোরগ পোলাওয়ের জনপ্রিয়তা

আজকাল শুধুমাত্র পুরান ঢাকা নয়, দেশের নানা প্রান্তের রেস্টুরেন্টেও মোরগ পোলাও পাওয়া যায়। বিয়ে বাড়ি, ঈদের অনুষ্ঠান, জন্মদিন বা ছুটির দিনের দুপুরের খাবারে এটি যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঘরের রান্নায় এর স্বাদ হয় আরও আলাদা, কারণ সেখানে ভালোবাসা, যত্ন আর গৃহস্থালী মশলার সঠিক ব্যবহার থাকে।


মোরগ পোলাও রান্নার সহজ রেসিপি

এবার চলুন জেনে নিই মোরগ পোলাও রান্নার সহজ রেসিপি—যা আপনি বাসাতেই খুব সহজে রান্না করতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

মুরগির মাংসের জন্য:

মুরগি – ১টি বা ৪ টা লেগ পিস হলে ভালো হয়

টকদই – ১ কাপ

পেঁয়াজ কুচি – আধা কাপ

আদা বাটা – ১ টেবিল চামচ

রসুন বাটা – ১ টেবিল চামচ

পোস্ত ও চিনা বাদাম বাটা – ১ টেবিল চামচ করে

গরম মসলা গুঁড়া – ১ টেবিল চামচ

জিরা গুঁড়া – ১ টেবিল চামচ

লবণ – পরিমাণমতো

জর্দা রং – সামান্য

তেল – ১ কাপ

পোলাওয়ের জন্য:

বাসমতি বা আতপ পোলাও চাল – ৫০০ গ্রাম

পেঁয়াজ বেরেস্তা – আধা কাপ

দারুচিনি – ২ টুকরা

এলাচ – ৪টি

তেজপাতা – ৩টি

কিসমিস – ১০-১২টি

কাঁচা মরিচ – ৮-১০টি

ঘি – ২ টেবিল চামচ

গোলাপ জল ও কেওড়া জল – আধা চা চামচ করে

লবণ – স্বাদমতো

সেদ্ধ ডিম – ৪টি 


মোরগ পোলাও রান্নার সহজ রেসিপি এর প্রস্তুত প্রণালী:

১. মুরগির টুকরোগুলো ধুয়ে দই, আদা-রসুন বাটা, লবণ, অল্প রং ও পেঁয়াজ কুচি দিয়ে মেখে ১ ঘণ্টা মেরিনেট করে রাখুন। 

২. তেল গরম করে মুরগির টুকরোগুলো হালকা ভেজে আলাদা করে রাখুন। 

৩. সেই তেলে বাকি পেঁয়াজ কুচি, মশলা বাটা, বাদাম-পোস্ত দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে মুরগি দিয়ে দিন।

৪. কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। ঝোল ঘন হলে নামিয়ে রাখুন। 

৫. অন্য পাত্রে ঘি গরম করে এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা, পেঁয়াজ ভেজে চাল দিয়ে ভাজুন। 

৬. চালের দ্বিগুণ হালকা গরম পানি দিয়ে দিন, স্বাদমতো লবণ দিন।

৭. চাল সিদ্ধ হলে অর্ধেক তুলে রাখুন, মুরগি বিছিয়ে দিন এবং উপর থেকে বাকি চাল ঢেকে দিন।

৮. গোলাপ জল, কেওড়া জল ও বেরেস্তা দিয়ে ঢেকে দিন। 

৯. অল্প আঁচে ১০ মিনিট দমে রাখুন।

এই রেসিপিটি যদি খাঁটি ঘি দিয়ে তৈরি করেন, স্বাদ হবে আরও অসাধারণ। আপনি চাইলে আমার তৈরি ঘরোয়া খাঁটি ঘি অর্ডার করতে পারেন 👉 অর্ডার লিংক



রান্নার সময়

মোরগ পোলাও রান্নার সময় নির্ভর করে পরিমাণ ও প্রস্তুতির উপর। সাধারণত ১ ঘণ্টা মেরিনেট, ৩০-৪০ মিনিট রান্না, এবং ১০ মিনিট দম দিলে মোট সময় লাগে প্রায় ১.৫ ঘণ্টা


স্বাস্থ্য উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

মোরগ পোলাও একদিকে যেমন সুস্বাদু, তেমনি এতে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ।

প্রোটিন: মুরগির মাংস শরীরের কোষ গঠন ও মাংসপেশি গঠনে সাহায্য করে।

কার্বোহাইড্রেট: পোলাও চাল শক্তির উৎস।

চর্বি: তেল ও ঘি থেকে পাওয়া চর্বি দেহে শক্তি যোগায়, তবে অতিরিক্ত গ্রহণ না করাই ভালো।

ভিটামিন ও মিনারেল: বাদাম, কিসমিস ও মশলার কারণে কিছু প্রাকৃতিক ভিটামিনও পাওয়া যায়।

তবে যাদের হৃদরোগ বা ওজনজনিত সমস্যা আছে, তারা পরিমিত মাত্রায় খাওয়া বেছে নিন।


রান্নার টিপস

মুরগি যেন বেশি শক্ত না হয়, তাই মাঝারি সাইজের দেশি বা ব্রয়লার মুরগি বেছে নিন।

টকদই ব্যবহারে মাংস কোমল হয় এবং ঝোল আরও মসৃণ হয়।

পোস্ত ও বাদাম বাটার ব্যবহার স্বাদে ঘনত্ব আনে।

পোলাও চাল ভাজার সময় সাবধানে ভাজুন, যাতে চাল ভেঙে না যায়।

দম দেওয়ার সময় ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করুন। চাইলে ঢাকনার চারপাশে আটা লাগিয়ে সিল করে দিতে পারেন।


পরিবেশন 

মোরগ পোলাও পরিবেশন করুন গরম গরম, সাথে দিন:

সেদ্ধ ডিম

বোরহানি

শাহী সালাদ

দই বা ঘন টকদই

একটি মিষ্টান্ন যেমন – ফিরনি বা জর্দা

এই আয়োজনে আপনার অতিথিরা নিশ্চয়ই খুশি হবেন।


শেষ কথা

মোরগ পোলাও রান্নার সহজ রেসিপি অনুসরণ করে আপনি ঘরে বসেই তৈরি করতে পারেন রেস্টুরেন্ট মানের একটি সুস্বাদু, রাজকীয় খাবার। এতে সময় লাগলেও এর স্বাদ ও গন্ধ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আপনার পরবর্তী অনুষ্ঠান বা ছুটির দিনের জন্য আজই ট্রাই করুন এই রেসিপিটি।

আপনার অভিজ্ঞতা বা প্রশ্ন কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। 


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url